![]() |
| উজিরপুর শিকারপুরে সহিংসতা: জামাই রক্তাক্ত, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ |
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ
উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের জয়শ্রী (ইসমাঈল মেম্বারের বাড়ি) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতার অভিযোগ এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভয়ের কারণে দীর্ঘ সময় কেউ মুখ খুলতে পারেননি।
সাংবাদিকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তারা প্রভাবশালী ও কুপ্রবৃত্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মানুষ নীরব থাকতে বাধ্য ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযুক্তদের বাড়িতে নিয়মিত অচেনা মানুষ যাতায়াত করত। বিষয়টি ধীরে ধীরে এলাকায় প্রসারিত হলে মানুষ ক্ষুব্ধ হলেও সম্ভাব্য হয়রানি ও আইনি জটিলতার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, মোসাঃ শারমিন বেগম, সিদ্দিক হাওলাদার, মোসাঃ ফাতেমা বেগম এবং মোঃ শাহীন হাওলাদার কুপ্রবৃত্তির জন্য পরিচিত। শারমিন বেগম নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। তার মা ফাতেমা বেগম সহায়তা করেন, আর বাবা সিদ্দিক হাওলাদার বাইরে থেকে খদ্দের এনে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানিয়েছেন, একই বাড়িতে থাকায় তাদের সামনেই একটি সহিংস ঘটনা ঘটে। শারমিন বেগমের স্বামী মোঃ আরিফুর রহমান রাজন (মাদারীপুর নিবাসী) তার স্ত্রীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে অভিযুক্ত চারজন তাকে বেধরক মারধর করে। তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন এবং মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। পরে বাড়ির লোকজনের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের প্রাথমিক খোঁজে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে জানা যায়, তিনি জাতীয় বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন।
উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
