বাবুগঞ্জের পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে যৌন নিপীড়ন: উজিরপুর মডেল থানায় মামলা

0
বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েও বিচার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী নারী।
পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে যৌন নিপীড়ন: উজিরপুর মডেল থানায় মামলা

উজিরপুর প্রতিনিধিঃ

বরিশাল জেলার উজিরপুর পৌরসভার পরমানন্দসাহা গ্রামের এক গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে বাবুগঞ্জ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হলেও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী নারী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামের মৃত ছালাম মিয়ার কন্যা মোসাঃ তাসলিমা আক্তার (সাথি) সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বরিশাল জেলার উজিরপুর পৌরসভার পরমানন্দসাহা গ্রামের আলামিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে তিনটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরু ভালো হলেও প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এই কলহ পারিবারিক অশান্তিতে রূপ নেয়।

এই সময়ের মধ্যেই প্রায় দুই বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোলা জেলার আলিনগর ইউনিয়নের সাছিয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে এবং বাবুগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মোঃ শাহিন আজাদ (ব্যাচ নং-১১৩৯)-এর সঙ্গে তাসলিমা আক্তারের পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কথোপকথনের একপর্যায়ে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের রূপ নেয়। ভুক্তভোগীর দাবি, নিজের পুলিশ পরিচয় ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শাহিন আজাদ তার আস্থা অর্জন করেন।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং ঢাকায় যাতায়াতের সময় লঞ্চের কেবিন রুমে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও যৌন নিপীড়ন করেন। এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখেন।

ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে তার স্বামী আলামিন তাকে তালাক দেন। এতে করে তার সংসার সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। তিন সন্তান নিয়ে তিনি হঠাৎ করেই চরম অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হন। বর্তমানে তিনি তালাকপ্রাপ্ত অবস্থায় সামাজিক অবমূল্যায়ন, মানসিক যন্ত্রণা এবং আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার সাথি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি শাহিন আজাদের বিয়ের কথায় বিশ্বাস করেছিলাম। সে আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল সংসার করবে। কিন্তু শেষে সে আমাকে একা ফেলে দেয়। তার কারণে আমার সংসার ভেঙে গেছে, আমি তালাকপ্রাপ্ত হয়েছি এবং সমাজে লাঞ্ছিত হচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলাও করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি মামলার পরও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছেন। এতে তিনি নিজেকে আরও বেশি অসহায় ও অনিরাপদ মনে করছেন। বিচার না পেলে নিজের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মোঃ শাহিন আজাদের বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে দোষী হন, তবে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পাবেন, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় থাকবে।

ভুক্তভোগী নারী দ্রুত অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)