বরগুনার দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত: নজরুল ইসলাম মোল্লা ও নূরুল ইসলাম মণি

0

রগুনায় বিএনপির শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন: দুই আসনে নতুন উদ্দীপনায় নেতাকর্মীরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে ২৩২ আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঘোষিত তালিকায় বরগুনার দুটি আসনেও মনোনয়ন পেয়েছেন দীর্ঘদিনের দুই সক্রিয় নেতা-বরগুনা-১ আসনে মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং বরগুনা-২ আসনে আলহাজ নূরুল ইসলাম মণি।

ঘোষণার পরপরই বরগুনার রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলাজুড়ে বিএনপি নেতা–কর্মীদের মাঝে দেখা দেয় উচ্ছ্বাস। ধানের শীষের পক্ষে মিছিল, শোভাযাত্রা ও আনন্দ র‌্যালি বের করে তারা। একাধিক স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে মনোনীত প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর বরগুনার দুই আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় বিএনপির মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন,

“আমরা বরগুনার দুটি আসনেই কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী পেয়েছি। বিএনপির অবস্থান এখানে অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। ইনশাআল্লাহ, এবার আমরা দুটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হবো।”
তিনি আরও বলেন, বরগুনা জেলার মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে এবং মানুষ পরিবর্তন চায়-এই সুযোগে বিএনপি সংগঠিতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন,

“দলের মনোনয়ন পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ১৯৯১ সালের পর বরগুনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এই এলাকার সিংহভাগ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। এবার তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, এবার আমাদের বিজয় হবেই।”
তিনি আরও বলেন, তিনি মাঠে থেকেই জনগণের সঙ্গে কাজ করছেন, এবং এই নির্বাচন হবে বরগুনায় বিএনপির পুনর্জাগরণের সূচনা।

অন্যদিকে বরগুনা-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য আলহাজ নূরুল ইসলাম মণি বলেন,

“আমার হাতে এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে এখানে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি; বরং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে মানুষ অতিষ্ঠ। এবার পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগীর অবহেলিত মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হতে পারলে বরগুনার ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী একটি শক্তিশালী ইকোনমিক জোন গড়ে তুলবো। এতে এই অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।”

দীর্ঘদিন পর বরগুনা-২ আসনে নূরুল ইসলাম মণির প্রার্থিতা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্যম এনে দিয়েছে। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দলের পক্ষে একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। নির্বাচনী মাঠে তিনি দলের সংগঠনকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করতে পারবেন বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা।

বরগুনা রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান ঐতিহ্যগতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে জয়ী হলেও বিএনপির শক্তিশালী ভোট ব্যাংক সবসময়ই প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে বরগুনা-২ আসনে নূরুল ইসলাম মণির জনপ্রিয়তা একাধিক নির্বাচনে দলের পক্ষে জয়ের ইতিহাসও তৈরি করেছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে এই দুই প্রার্থী মাঠে নামার পর জেলাজুড়ে নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ আরও বাড়বে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের মতো ইস্যু এবার বরগুনা অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে জনমত গঠনে সহায়ক হবে। তারা আশাবাদী, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের পক্ষে জনরায় নিশ্চিত।
বরগুনার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন একটাই প্রশ্নে সরব-দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রার্থী পাওয়া বিএনপি এবার কি বরগুনা পুনরুদ্ধার করতে পারবে?

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)