পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ: বাড়ল জরিমানা | ই-সিগারেট ও ভ্যাপ নিষিদ্ধ

0

পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ: বাড়ল জরিমানা | ই-সিগারেট ও ভ্যাপ নিষিদ্ধ

সসা ডেস্কঃ

বাংলাদেশে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরকার “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” কার্যকর করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত এই অধ্যাদেশে ২০০৫ সালের মূল আইনকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের শুরুতেই এটি কার্যকর হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’–এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এবার শুধু সিগারেট বা বিড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আইনটি; এর আওতায় আনা হয়েছে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন পণ্যও আইনের আওতায় আনতে পারবে।

অধ্যাদেশে ‘নিকোটিন’, ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’ এবং ‘পাবলিক প্লেস’–এর সংজ্ঞা আরও সুস্পষ্ট ও ব্যাপক করা হয়েছে। ফলে অফিস, গণপরিবহন, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, পার্কসহ মানুষের সমাগম হয়-এমন সব স্থানে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে আইনের প্রয়োগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইন অমান্য করলে আগের তুলনায় শাস্তি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জরিমানা ছিল ৩০০ টাকা, সেখানে এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, বাড়তি জরিমানার ফলে মানুষ ধূমপান থেকে বিরত থাকবে এবং আইন মানতে উৎসাহিত হবে।

তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশনেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি পরোক্ষ প্রচার বা ব্র্যান্ডিংকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের মতো সংবেদনশীল এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানা দ্বিগুণ করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে, যা শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা এ খাতে সরকারের কঠোর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

এছাড়া দীর্ঘদিনের বিড়ি উৎপাদন (নিষিদ্ধ) অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ বাতিল করে কুম্ভি ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারে নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যে ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক উপাদান মেশানোও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সংশোধিত অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং একটি সুস্থ জাতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সসা/ডেস্ক/নিয়া/০২/০১/২০২৬

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)