বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৯৮৩ শিশুকে শীতবস্ত্র দিল ওয়ার্ল্ড ভিশন ও সিআরএসএস

0

সিআরএসএস-এর তত্ত্বাবধানে জল্লায় শীতের কম্বল বিতরণ ২০২৫

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ

উজিরপুরে নিবন্ধিত শিশুদের জন্য শীতের উপহার হিসেবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে বেশ সংখ্যক শিশু ও অভিভাবক অংশ নেন। শীত মৌসুমের শুরুতেই এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি তৈরি করে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, এপি উজিরপুর এবং সেন্টার ফর রুরাল সার্ভিস সোসাইটি (সিআরএসএস)-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ কম্বল বিতরণ সম্পন্ন হয়। প্রতিটি নিবন্ধিত শিশুর পরিবারের জন্য একটি করে কম্বল বরাদ্দ থাকে, যা বিশেষভাবে সেই শিশুর ব্যবহার উপযোগী। আয়োজকরা জানান, শীতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিতরণকৃত কম্বলগুলো শরিফ এন্ড কোং দ্বারা প্রস্তুত এবং প্রতিটির সাইজ ছিল এল (L)। ওজন ১১০০ থেকে ১২০০ গ্রামের মধ্যে হওয়ায় এগুলো শীতে পর্যাপ্ত উষ্ণতা দিতে সক্ষম। আয়োজকদের মতে, মানসম্মত কম্বল সরবরাহের জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে যাতে শিশুরা শীতের ঠান্ডা থেকে যথাযথ সুরক্ষা পায়।

উজিরপুর পৌরসভায় মোট ৬৬২ জন নিবন্ধিত শিশুর মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই শিশু ও তাদের অভিভাবকরা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে যেমন সহায়তা করে, তেমনই শীতে শিশুর সুস্থতা বজায় রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের এপি ম্যানেজার সিলভিয়া ডেইজি, সিআরএসএস–উজিরপুরের সিডিও অ্যানিমিতা বৈরাগী এবং সিআরএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তারা জানান, শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের প্রধান কর্মপরিকল্পনার অংশ। তাই ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কম্বল হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একজন উপকারভোগী রেহানা বেগম বলেন, “শীত আসলেই বাচ্চাদের জন্য আলাদা কিছু কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। এই কম্বল আমাদের পরিবারে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।” আরেক অভিভাবক জসিম উদ্দিন জানান, “মানসম্মত কম্বল পেয়ে আমরা খুব উপকৃত হয়েছি। যারা দিয়েছেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।”

স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর এমন উদ্যোগ চলমান থাকলে শীতকালে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক সময় পার করতে পারবে।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)