![]() |
| চরফ্যাশনের নারী উদ্যোক্তা পিংকি গ্রাহকদের অবরোধের পর থানা হেফাজতে |
বিশেষ প্রতিনিধি, ভোলা।।
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা বাজারে সঞ্চয় ও আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে আলোচিত নারী উদ্যোক্তা পিংকি আক্তারকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে সারাদিন দক্ষিণ আইচা বাজারে ছিল চরম উত্তেজনা।
সকাল থেকেই শতাধিক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরতের দাবিতে পিংকির অফিসে ভিড় জমান। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে “প্রয়োজন গ্রুপ” ও “প্রয়োজন সমবায় সমিতি” নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিংকি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে টাকা জমা নিচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা তার অফিস ঘেরাও করেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রাহকদের কেউ কেউ অফিসে ভাঙচুরেরও চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, পিংকি আক্তার গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিলেন। শুধু প্রয়োজন সমবায় সমিতিতেই কয়েক কোটি টাকার আমানত রয়েছে। এক নারী গ্রাহক জানান, “আমি আমার মেয়ের বিয়ের জন্য ৩৭ লাখ টাকা জমা রেখেছি। এখন শুনছি পিংকি বিদেশে যাবেন। তাই টাকা ফেরত চাইতে এসেছি, কিন্তু পাচ্ছি না।”
অন্যদিকে উদ্যোক্তা পিংকি আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এসব গুজব ছড়াচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “আজ আমাকে অবরুদ্ধ করে আমার শোরুমে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মালামাল লুট করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পিংকি আরও জানান, দক্ষিণ আইচা বাজারে তার প্রায় ৮৪ লাখ টাকার ইনভেস্ট রয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছে দেনা প্রায় ৬৭ লাখ টাকা। “আমি কারও টাকা আত্মসাৎ করিনি। ধীরে ধীরে সবার পাওনা পরিশোধ করব,”-বলেন তিনি।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই পুলিশ পাঠানো হয়। গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিংকিকে থানায় আনা হয়। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আইচা বাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পিংকি আক্তার নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন এবং বহু নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে এই ঘটনার পর অনেকেই হতবাক। ভুক্তভোগীরা এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন।
