ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশে ১১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ লুট: কর্ণফুলীতে গ্রে/প্তার ২

0

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বিয়ে বাড়ি ডাকাতি ঘটনায় ২২ দিন পর দুইজনকে টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ১১ ভরি স্বর্ণ, নগদ দুই লাখ টাকা ও স্মার্টফোন লুট হওয়া উল্লেখযোগ্য। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
কর্ণফুলীতে ডিবি পরিচয়ে ভয়াবহ বিয়ে বাড়ি ডাকাতি: গ্রেপ্তার ২

বিশেষ প্রতিনিধি।।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর এলাকায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত বিয়ে বাড়ি ডাকাতির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২২ দিন পর কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা শাখা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের একটি বিশেষ দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় টেকনাফ থানার পশ্চিম গোদার বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার দুইজন হলেন-চকরিয়া পৌরসভার তরছঘাটা পশ্চিম ভাটাখালী এলাকার নবাব মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (২৫) এবং টেকনাফ পশ্চিম গোদার বিল এলাকার আহাম্মদ হোছনের ছেলে মো. আব্দুল করিম (৩৬)। পুলিশ জানায়, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।

কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে, যাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

গত ১২ অক্টোবর রাতে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহমীরপুর এলাকায় এক বিয়ে বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মিয়ার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ডিবি পুলিশের পোশাক পরে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বাড়ির পুরুষদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং নারীদের আতঙ্কিত করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশির নামে ডাকাতরা ঘর থেকে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ দুই লাখ টাকা এবং কয়েকটি স্মার্টফোন লুট করে নেয়। ঘটনার পর তারা দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। পরদিন (১৩ অক্টোবর) ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মিয়া কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ডাকাত দলের সদস্যরা পেশাদারভাবে প্রশিক্ষিত এবং তারা পুলিশের মতো আচরণ করেছিল, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।

ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেও তারা কোনো ধাওয়া দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরবর্তীতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়।

এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং মোবাইল টাওয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ডাকাত চক্রের গতিবিধি শনাক্ত করে। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার দুইজনের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, তারা আগে থেকেই ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছিল এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সুযোগ বুঝে অভিযান পরিচালনা করে।

রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে যাতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয় ও অবস্থান জানা যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র, যারা বিভিন্ন এলাকায় ‘ডিবি’ পরিচয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল।

ঘটনার পর শাহমীরপুর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয়ে যদি কেউ এভাবে ঘরে ঢুকে ডাকাতি করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে?” তারা প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)