![]() |
| শিকারপুর বন্দরে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা |
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশাল বিভাগীয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর উজিরপুরের শিকারপুর বন্দরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একটি বিশেষ বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমী রাণী মিত্র। স্থানীয় বাজারে খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক মূল্য প্রদর্শন এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান পরিদর্শন করে দেখা যায়-কিছু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি করছেন এবং বাধ্যতামূলক মূল্য তালিকা প্রদর্শন করছেন না। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভূইয়া স্টোর, বেলাল স্টোর, সুলতান স্টোর, খান স্টোর, আব্বাস স্টোর ও বেপারী স্টোর-এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মোট ১২,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
প্রতিষ্ঠানভেদে ভূইয়া স্টোরকে ২,০০০ টাকা, বেলাল স্টোরকে ১,০০০ টাকা, সুলতান স্টোরকে ২,০০০ টাকা, খান স্টোরকে ৩,০০০ টাকা, আব্বাস স্টোরকে ২,০০০ টাকা এবং বেপারী স্টোরকে ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে-ভবিষ্যতে যদি এমন অনিয়ম ধরা পড়ে, আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান তদারকির নেতৃত্বদানকারী সুমী রাণী মিত্র বলেন, “ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউ যেন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করতে না পারে বা ভোক্তাকে প্রতারণা না করে—সেই বিষয়টিই আমরা নিশ্চিত করছি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানে প্রসিকিউটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এসএম ইলিয়াস উদ্দিন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (উজিরপুর–বরিশাল)। তিনি বলেন, “একজন ব্যবসায়ী যদি সঠিকভাবে আইন মেনে চলেন, তাহলে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আজকের অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়ায় দ্রুত আইন প্রয়োগ করা হয়েছে, যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
অভিযান চলাকালে উজিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পুলিশ সদস্যরা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের অভিযানে প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করেন, ফলে পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
এদিকে শিকারপুর বন্দরের এক স্থানীয় ক্রেতা বলেন, “এ ধরনের অভিযান হলে দোকানিরা সতর্ক থাকে, আর আমরা ক্রেতারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারি। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই এমন তদারকি খুবই প্রয়োজন।” তিনি নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ চালু রাখার দাবি জানান।
