![]() |
| ত্যাগীদের পাশে দলের দাবি-লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিক্ষোভে উত্তাল বিএনপি কর্মীরা |
বিশেষ প্রতিনিধি, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ।।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে। এই অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি নেত্রী সামিরা আজিম দোলার নির্দেশে তাঁর সমর্থিত নেতা-কর্মীরা লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ করেন।
প্রতিবাদে অংশ নেয় হাজারো নেতাকর্মী, যাদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা “অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন নয়”, “ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন চলবে না”, “আমাদের প্রার্থী দোলা চাই”-এই স্লোগান দিতে থাকেন।
অভিযোগের সূত্রপাত ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর দলীয় তৃণমূলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বিএনপির জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিনের সংগঠক সামিরা আজিম দোলার অনুসারীরা দাবি করেন, “দলের ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে টাকার জোরে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটা বিএনপির আদর্শবিরোধী।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন,
“দোলা আপা ২০০১ সাল থেকে বিএনপির জন্য মাঠে আছেন। দলে যখন কঠিন সময় গেছে, তখনও তিনি পাশে ছিলেন। আজ যদি তাকে বাদ দিয়ে অর্থলোভীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তা হবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি অবমাননা।”
বিক্ষোভের চিত্র
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লাকসাম বাজার এলাকা থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। পরে সেটি মনোহরগঞ্জ সদর পর্যন্ত যায়। মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয় গোটা শহর।
প্রতিবাদ শেষে একটি সমাবেশে বক্তারা বলেন,
“আমরা কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন মেনে নেব না। সামিরা আজিম দোলার প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও ত্যাগকে উপেক্ষা করে মনোনয়ন দিলে তা হবে বিএনপির আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
আরেক বক্তা বলেন,
“২০০৮ সালের নির্বাচনে আবুল কালাম সাহেব সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে নৌকার পক্ষে কাজ করেছিলেন-আমরা সেই ইতিহাস ভুলে যাইনি। আজ সেই ধরনের ব্যক্তিদের আবার প্রার্থী বানানোর চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
‘ত্যাগী নেত্রী দোলা’-তৃণমূলের দাবিতে ঐক্য
সামিরা আজিম দোলা বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি একাধিকবার দলের বিপদসংকুল সময়ে রাজপথে ছিলেন, মামলা-হামলার মুখেও ত্যাগ করেননি দল। তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থেকেছেন বহুবার। এমনকি করোনাকালেও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন।
এই কারণেই তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, দোলা কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন-তিনি এই অঞ্চলের নারীদের অনুপ্রেরণার প্রতীকও।
মনোহরগঞ্জের এক তরুণ বিএনপি কর্মী বলেন,
“দোলা আপা শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের সাহসের প্রতীক। দলের কঠিন সময়ে আমরা যেভাবে তাঁর পাশে ছিলাম, এবারও থাকব।”
কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের প্রতি বার্তা
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান, যেন মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা বলেন,
“বিএনপি সবসময় গণতন্ত্র, ন্যায় এবং আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই এই আসনে ত্যাগী নেত্রী সামিরা আজিম দোলাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হলে দল আরও শক্তিশালী হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামিরা আজিম দোলা ইতিমধ্যে কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে তাঁর শক্ত সংগঠন ও জনসংযোগ রয়েছে। ফলে যদি তিনি প্রার্থী হন, বিএনপি এই আসনে উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে পারবে।
বিক্ষোভ শেষে শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি
দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ ও সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা নাগাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা সামিরা আজিম দোলার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা দলীয় হাইকমান্ডকে সতর্ক করেন,
“অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া যদি বন্ধ না হয়, তাহলে তৃণমূল কর্মীরা নির্বাচনে অংশ নেবে না।”
